ফেরেশতারা এমন কি দেখেছিল যে তারা এক হাজার বছর বেহুশ হয়ে পড়েছিল

 প্রিয় বন্ধুরা আজকের এই পোস্টে আমরা জানতে চলেছি যে ফেরেশতারা এমন কি দেখেছিল যে তারা ১০০০ বছর বেহুশ হয়ে পড়েছিল। কোন ঘটনার মধ্য দিয়ে ফেরেশতা আজরাইল আলাইহিস সালামের নাম হল মালাকুল মউত?



ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) এর দাকায়েকুল আকবার নামক কিতাবে মৃত্যু সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে উল্লেখ আছে। আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম মৃত্যুকে সৃষ্টি করে 70000 শিকল দ্বারা আবদ্ধ করে ৭০ হাজার পর্দার আড়ালে রেখে দিয়েছিলেন। সেই জিঞ্জির এত বড় ছিল যে একটা তেজি ঘোড়া সহস্র বছর পাড়ি দিলেও তার একটি প্রান্ত অতিক্রম করতে পারবেনা। ফেরেশতাগণ কেউই জিঞ্জিরের শব্দের ভয়ে মৃত্যুর কাছে যেত না। আর মৃত্যু যে কি জিনিস তারা সেটা জানতোই না।



হযরত মিকাইল ফেরেশতা দেখতে কেমন এবং তার কাজ কি



একদিন আল্লাহ তায়ালা সকল ফেরেশতাদের ডেকে মৃত্যুকে পর্দার আড়াল থেকে উন্মোচন করলেন। মৃত্যুর এমন ভয়ংকর সুরত দেখে ফেরেশতাগণ বেহুশ হয়ে গেল, আল্লাহতালা ১০০০ বছর পর তাদের হুশ ফিরিয়ে দিলেন। ফেরেশতাগণ জিজ্ঞেস করল হে আল্লাহ এর থেকে বড় কিছু কি আপনি সৃষ্টি করেছেন? তখন মহান আল্লাহতায়ালা বললেন আমি মৃত্যুকে সৃষ্টি করেছি এবং আমি এর চেয়েও বড়। অতঃপর আল্লাহতালা আজরাইল আলাইহি সালামকে বলেন হে আজরাইল আমি তোমাকে মৃত্যুর উপর ক্ষমতাবান করলাম।




তখন আজরাইল আলাইহিস সালাম বললেন হে আল্লাহ আমার কি এমন ক্ষমতা আছে যে আমি মৃত্যুকে আয়ত্তে রাখতে পারি? তখন আল্লাহ তায়ালা আজরাইল আলাহিস সালামকে মৃত্যুর চেয়েও সহস্র গুন শক্তি প্রদান করলেন। ফলে আজরাইল আলাইহিস সালাম মৃত্যুকে স্বীয় ডান হাতের মুঠোয় আবদ্ধ করে ফেললেন। আর তখন থেকে আজরাইল আলাইহিস সালামের নাম হল মালাকুল মউত অর্থাৎ মৃত্যুর অধিপতি।



তারপর মালাকুল মউত আল্লাহর কাছে আবেদন করলেন হে আল্লাহ আপনি আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছেন তা আমি আসমান ও জমিনের সর্বত্র ঘোষণা করতে চাই। আল্লাহ তায়ালা মালাকুল মউতকে অনুমতি দান করলে তিনি বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করলেন হে সৃষ্ট জীব আমি সেই মৃত্যু যে বন্ধুবান্ধব পিতা-মাতা, ভাই বোন স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাই। ঘরবাড়ি দালানকোঠা ধ্বংসস্তূপে পরিণত করি। তোমরা গগন স্পর্শী অট্টলিকায় থাকলেও আমি তোমাদের কাছে পৌঁছাব।




সকলকেই আমার স্বাদ গ্রহণ করতে বাধ্য হবে। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার হযরত কাপ রাঃ কে বলেছিলেন আমাকে মৃত্যুর অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলুন। তখন হযরত কাফ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন মৃত্যু হল কাঁটাতার গাছের মত। কাটা যুক্ত সে গাছটি মানুষের পেটে ঢুকানোর পর তার প্রতিটা কাটা শিরায় শিরায় লেগে যায়। তখন একজন শক্তিশালী মানুষ যদি গাছটি ধরে জোরে টেনে বের করার চেষ্টা করে ওই মুহূর্তে শিরায় শিরায় বৃদ্ধ হওয়া কাটার আঘাতের কষ্ট মানুষটি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করে।



অনুরূপভাবে মানুষের মৃত্যু কালীন সময়ে মৃত্যু পথযাত্রীর কাছেও মনে হয় যেন তার শরীরের গোস্টগুলো একটি কাটা সঙ্গে পেরিয়ে আসছে। সে মৃত্যু যন্ত্রণা মানুষ হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করে থাকে। 


এ কারণেই আল্লাহতালা কুরআনের মধ্যে এরশাদ করেন হে ঈমানদারগণ আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিত ঠিক তেমনি ভাবে ভয় করতে থাকো। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। সূরা ইমরান আয়াত 102। আল্লাহতালা আমাদেরকে পরিপূর্ণ ঈমানদার হয়ে মৃত্যুর পূন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে কবরে যাওয়ার তৌফিক দান করুন ।আমীন।




Post a Comment

Previous Post Next Post