আমাদের জন্মের আগে রুহ কোথায় ছিল

প্রিয় বন্ধুরা আজকের এই পোস্টে আমরা জানতে চলেছি যে আমাদের জন্মের আগে রুহ কোথায় ছিল। কিছু কিছু অপরিচিত মানুষকে দেখলে মনে হয় আমরা এই মানুষটাকে এর আগেও যেন কোথাও দেখেছি অথবা এই মানুষটার সাথে আমাদের আগেও সম্পর্ক ছিল। আপনার কি এটা মনে হয় আর এই ব্যাপারে কোরআন হাদিস কি বলে এর উত্তর শুনলে আপনিও অবাক হয়ে যাবেন। তো চলুন শুরু করা যাক দেরি না করে।



আমাদের রুহ প্রথম সৃষ্টি করা হয়েছিল আলাম আঁধারী এই জগতে আমাদেরকে প্রথম জীবন দান করা হয়েছিল। এই জগতটি আলমে আরওয়া বা রুহের জগত নামের আরেকটি বৃহত্তর জগতের একটি ক্ষুদ্র অংশ। এই জগতে সকল রুহ ঘুরে বেড়াই আলমে আরওয়া জগতের এই ক্ষুদ্র অংশ আলাম আঁধারে মহান আল্লাহর সাথে আমাদের সকলের সাক্ষাৎ হয়েছিল। মৃত্যুর পরেই আমরা যখন এই দুনিয়া ত্যাগ করি তখন আমরা আলমে বারজাখে প্রবেশ করি।


আমাদের জন্মের আগে রুহ কোথায় ছিল



এই যাবতীয় আলমে আরওয়ার আর একটি অংশ। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে এই আলমে আরওয়া আসলে কি? এই দুনিয়া যা রুহের জগত নামেও পরিচিত একটি অত্যন্ত অদ্ভুত জগত। এই জগতটি সর্বদা বিরাজ করে দুনিয়ায় বেঁচে থাকা অবস্থায় ঘুমের ভেতরেও আমরা সামান্য সময়ের জন্য এই জগতে প্রবেশ করি। বিভিন্ন আলিঙ্গন বলেন আল্লাহ শুধুমাত্র মৃত্যুর সময়ই নয় বরং ঘুমের সময়ও সাময়িকভাবে আমাদের আত্মা তার কাছে নিয়ে যান।



তাহলে বোঝাই যাচ্ছে ঘুমের ভেতর সাময়িকভাবে আমাদের আত্মা আমাদের দেহ থেকে বের হয়ে এই রুহের জগতে প্রবেশ করে। এই জগতে থাকা অবস্থায় আমরা অনেক অদ্ভুত জিনিসের সংস্পর্শে আসি। তাহলে এই জগতে থাকা অবস্থায় কি আমরা এমন কারো সাথে পরিচিত হতে পারি যাকে আমরা আগে কখনো দেখিনি? জি এটা অবশ্যই সম্ভব ইমাম কাইয়ুম নিশ্চিত হয়ে বলেছেন ঘুমের ভিতর আমাদের আত্মা অস্থায়ীভাবে আমাদের দেহত্যাগ করে এবং আলমে আরওয়াতে অন্য ব্যক্তির আত্মার সংস্পর্শেও আসতে পারে।




স্বপ্নে আমরা অনেক সময় বিভিন্ন ব্যক্তির বিশেষ করে মৃত ব্যক্তিদের দেখে থাকলেও সব ক্ষেত্রেই যে আমাদের রুহের জগতে তাদের সাক্ষাৎ পাচ্ছি তা কিন্তু নয়। তবে কিছু খেতে তা সত্যি হতেও পারে হয়তো আপনি শুনেছেন অনেক মানুষ দাবি করেছেন তারা স্বপ্নেই রাসূল সাঃ  কে দেখেছেন সুবহানাল্লাহ আল্লাহ আমাদেরকেও স্বপ্নের রাসূল সাঃ  দেখার সৌভাগ্য দান করুন। এই রুহের জগত খুবই রহস্যময় এই জগতকে সঠিকভাবে বর্ণনা করা আমাদের সাধ্যের বাইরে।




পবিত্র কুরআনে রুহু সম্পর্কে আল্লাহতালা এরশাদ করেন তারা তোমাকে রুহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে বলে দাও রুহ আমার রবের হুকুম ঘটিত বিষয়। কিন্তু তোমরা সামান্য জ্ঞানী লাভ করেছ। সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত নম্বর ৮৫। আত্মা আসলেই এত জটিল জিনিস যে তা আমাদের বোঝার ক্ষমতার বাইরে। অনেকেই প্রশ্ন করেন আলাম আঁধার নামে জগতে স্বয়ং আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ লাভের পর পৃথিবীতে আসা পর্যন্ত সকল আত্মা কোথায় ছিল?



তারা কি করছিল? তারা কি একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করছিল? অনেক হাদিসে বর্ণিত আছে আল বারজাখে মৃত্যুর পর আর তারা একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করে থাকে কিন্তু জন্মের আগে এই আত্মারা কোথায় থাকে?



এই বিষয়ে রাসূল সাঃ বলেন আর তারা অনেকটা সৈনিকদের মতো পৃথিবীতে আসার আগে বেশিরভাগ আত্মারা একে অপরের সাথে সদ্ভভাব বজায় রেখে চলত আর দুনিয়াতে আসার পরেও তারা একইভাবে সকলের সাথে সদ্ভভাব রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু অল্প সংখ্যক আত্মা পৃথিবীতে আসার আগে অপরের সাথে মিলেমিশে চলতে পারত না দুনিয়াতে আসার পরেও তারা এইরকম ব্যবহার বজায় রাখে।




এই সংক্রান্ত একটি সুন্দর ঘটনা আছে যা বেশিরভাগ মানুষেরই অজানা হযরত আয়েশ রাঃ থেকে বর্ণিত আছে মক্কার এক মহিলা সকল মহিলাকে আনন্দ দিতেন হাসাতেন এই কারণে তিনি অনেক সুপরিচিত ছিলেন। মহিলাটি মক্কার মহিলাদের নিয়ে আসর জমাতে এবং তাদের আনন্দ দিতেন। পরবর্তীতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন যদিও আয়েশা রা: তার নাম প্রকাশ করেননি কিন্তু ধারণা করা হয় তিনি ইসলামের একজন প্রসিদ্ধ সাহাবী হবেন।




তিনি মানুষকে আনন্দ দেয়ার কারণে সবাই তাকে পছন্দ করতেন। পরবর্তীতে তিনি রাসূল সাঃ এর সাথে হিজরত করেন এবং মক্কা থেকে মদিনাতে গমন করেন। মদিনায় পৌঁছানোর পর রাসূল সাঃ তাদের সাথে আনসারদের চড়া বেঁধে দিলেন সেই আনসাররা মক্কা থেকে হিজরতকারী মুহাজিরিনদের তাদের নিজ গৃহে আশ্রয় দিতো সেই মহিলা মুহাজিরিন এমন এক মহিলা আনসারের বাড়িতে উঠলেন যিনি কিনা মদিনার সব মহিলাদের হাসাতেন আনন্দ দান করতেন।



তারা খুব শীঘ্রই ভালো বন্ধুতে পরিণত হলেন এবং তারা খুব বড় সাহাবী ও ছিলেন। এটি দেখে রাসূল সাঃ বললেন এদের আত্মা দুনিয়ায় আসার আগেই একে অপরকে চিনতো। তাহলে আমরা বুঝতে পারছি দুনিয়ায় আসার পূর্বে আলমে আরওয়াতে আত্মারা একে অপরের সাথে পরিচিত হয় এবং দুনিয়ায় আসার পরেও তারা তাদের সেই পরিচিতজনদের সাথে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করে।




আর সেই জগতে যে আত্মারা একে অপরকে এড়িয়ে চলে দুনিয়ায় আসার পরেও তারা একই রকম আচরণ করে এজন্য আমরা অনেক সময় কাউকে একবার দেখাতেই পছন্দ করে ফেলি। অন্যদিকে কাউকে একেবারেই সহ্য করতে পারি না। হজ ওমরা কিংবা মসজিদে গেলে প্রায় অনেককে দেখা যায় যাদেরকে আমাদের বহুদিনের পরিচিত মনে হয় হতে পারে আমরা দুনিয়ায় আসার আগে আমাদের খুবই আপনজন ছিল আল্লাহপাক বলেন নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং সৎ কাজ করে পরম করুণাময় অবশ্যই তাদের জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করবেন ।সুবহানাল্লাহ।




এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশে বিশ্বাসী আত্মারা একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হবে । তার অপার মহিমার ফলেই আমাদের অতিরিকট বন্ধু-বান্ধবের সৃষ্টি হয়। অতীত দুনিয়াতেও তারা আমাদের বন্ধুই ছিল। আর সেই কারণেই ইহকালেই তাদেরকে আমাদের বন্ধু করে পাঠানো হয়েছে। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে গ্রহের জগতে আত্মারা একে অপরের সাথে মিলিত হয় এবং আল্লাহ ও তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সুবহানাল্লাহ।

Post a Comment

Previous Post Next Post